দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান তাদের প্রায় পারমাণবিক অস্ত্র-মানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রাখা স্থাপনাগুলো ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দেওয়া একাধিক সূত্র।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান পরিকল্পিতভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টানেল ধসিয়ে দিয়েছে এবং প্রবেশপথগুলোতে বিস্ফোরক মাইন বসিয়েছে। এতে ওই মজুতের কাছে পৌঁছানো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।
প্রায় অর্ধ টন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বর্তমানে গভীর ভূগর্ভে সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক মাস আগেও পরিস্থিতি তুলনামূলক সহজ ছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই উপাদান জব্দ করার বিষয়টি বিবেচনা করছিল।
নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকেও জটিল করে তুলেছে। আলোচনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সরিয়ে ধ্বংস করার একটি সম্ভাব্য চুক্তির কথা বলা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ইরানের জাতিসংঘ মিশন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং চলমান সংঘাত অবসানের আলোচনায় এই ইউরেনিয়ামকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, দুই পক্ষ একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছালেও চূড়ান্ত শর্তাবলি এখনো স্পষ্ট নয়। খসড়া চুক্তি ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানেল ধসানো ও মাইন অপসারণ ছাড়া এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক হবে। এতে ভারি খনন সরঞ্জাম ও বিশেষায়িত মাইন অপসারণ দল প্রয়োজন হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মজুতের বড় অংশ ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে ধসে পড়া টানেলের নিচে রয়েছে, আর কিছু অংশ অন্য স্থানে ছড়িয়ে থাকতে পারে।
এর আগে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে এই উপাদান জব্দের একটি অভিযান বিবেচনা করেছিল, তবে সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বাতিল করা হয়।
/অ